বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

চোরাকারবারিদের চারণভূমি হালুয়াঘাট সীমান্ত

চোরাকারবারিদের চারণভূমি হালুয়াঘাট সীমান্ত

খায়রুল আলম রফিক, হালুয়াঘাট থেকে ফিরে : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার তিন গ্রামের প্রায় শতাধিক রুট দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে হেরোইন, চিনি , ফেনসিডিল, গাঁজা, মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল,কসমেটিকসহ প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চোরাইপণ্য ঢুকছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে । এর নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় পুলিশের লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। তবে উৎকোচ বাণিজ্য ও চোরাচালানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তাদের দাবি, কোনো বর্ডার ক্রাইম নেই। হালুয়াঘাট উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। এ সীমান্তে রয়েছে গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী নামের দু’টি স্থলবন্দর। যদিও সরকারি ঘোষণা ও উদ্বোধনের পর এখনো এ দু’টি বন্দর আধুনিক রূপ পায়নি। সরেজমিনে খোঁজ-খবর ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হালুয়াঘাট সীমান্তের কুচপাড়া, গাবরাখালী ও কচুয়াকুড়া গ্রামের প্রায় শতাধিক রুট এখন চোরাকারবারির নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকার চোরাই পণ্যের আনা-নেওয়ার জন্যও গড়ে উঠেছে নিরাপদ রুট।

এ তিন গ্রাম ছাড়াও কাতলমারী, গোবরাকুড়া, লক্ষ্মীকুড়া, তেলিখালী, জয়রামপুরাসহ প্রায় ৩২টি গ্রামের মানুষ কোনো না কোননোভাবেই চোরাকারবারির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ সীমান্তের নিরাপদ এসব রুট দিয়েই প্রতিদিন দেশে আসছে মাদক, লুঙ্গি, কাঠ, শাড়ি, চিনি, ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরবাইক, হিরো বাইসাইকেল , কসমেটিক, শাড়িসহ বিভিন্ন জাতের মসল্লা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গাঁজা ও হেরোইনের জন্য কচুয়াকুড়া ও গাবরাখালী পয়েন্ট বেশ আলোচিত। কখনো বস্তায়, আবার কখনো মুড়ির টিনে ভরে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে গাঁজা ও হেরোইন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে চোরাই মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দরে প্রতিদিন বৈধপথে আসা বেশিরভাগ কয়লার ট্রাকের ছাদে বোঝাই থাকে লাউ ও কুমড়া।

এসব সবজির ভেতরটা ফাঁকা করে অত্যন্ত কৌশলে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইন। গাবরাখালী গ্রামের হাফিজুল নামের মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি বলেন, চোরাই পণ্যগুলো ভোরে এ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। সেখান থেকে চলে যায় স্থানীয় বাঘাইতলা হাটে। সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বর্ডার গার্ডকে ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকা উৎকোচ বাণিজ্যের বিনিময়ে ভারত থেকে কোটি কোটি টাকার চোরাইপণ্য প্রতিদিন এপারে আনা হচ্ছে। মূলত এদের ছত্র-ছায়াতেই অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্যে দু’দেশের চোরাকারবারিদের মধ্যে গড়ে উঠেছে এ বিশেষ নেটওয়ার্ক, এমন অভিযোগও নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ আছে, ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার একজন এসআই সরাসরি জড়িত। রয়েছে ৯ জন সোর্স, তাদের দিয়েই মাসোহারা তোলা হয়। তবে উৎকোচ বাণিজ্য ও চোরাচালানির অভিযোগ অস্বীকার করে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, ময়মনাসিংহের এ বর্ডার বেল্ট স্মাগলিং কোন বেল্ট নয়। বাংলাদেশের অন্যান্য সীমান্তের তুলনায় এ সীমান্ত তুলনামূলকভাবে ভালো। তিনি আরও বলেন, বিজিবি ও পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে ভারত থেকে কোন কিছুই আসা সম্ভব নয়। এখানে বর্ডার ক্রাইম জিরো টলারেন্সে রয়েছে। ফেনসিডিল ও মদ আসা বন্ধ হয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |